1. a.hossainmcj@gmail.com : Akter Hossain : Akter Hossain
  2. Gram.bangla@yahoo.com : bigboss : Tanjim
  3. billal.mcj1@gmail.com : Billal Hosen : Billal Hosen
  4. mdkutubcou@gmail.com : গ্রাম বাংলা : গ্রাম বাংলা ডেস্ক
  5. sanymcj@gmail.com : GramBanglaBD : Gram Bangla
  6. muhaimin.mcj@yahoo.com : Gram Bangla : Muhaimin Noman
  7. mohiuddinrasel1922@gmail.com : Mohi Uddin Rasel : Mohi Uddin Rasel
  8. rayhan.mcj@gmail.com : Abu Bakar Rayhan : Abu Bakar Rayhan
করোনার টিকা আবিস্কারের দেশের তালিকায় বাংলাদেশ - দৈনিক গ্রাম বাংলা    
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২০, ০৭:৪১ পূর্বাহ্ন

করোনার টিকা আবিস্কারের দেশের তালিকায় বাংলাদেশ

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২০
  • ৩২৫ বার পঠিত

করোনাভাইরাস রোগের ভ্যাকসিন বা টিকা আবিস্কারের দাবিদার হলো বাংলাদেশও। গত বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিস্কারের ঘোষণা দিয়েছে স্থানীয় প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেক লিমিডেট। এটি দেশের অন্যতম ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালসের সহযোগি প্রতিষ্ঠান।

সরকারের সহযোগিতা পেলে আগামী ছয় মাসের মধ্যেই এই ভ্যাকসিন বাজারে আনতে সক্ষম বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। এর আগে বিশ্বের ১০টি দেশ এর প্রতিষ্ঠান ভ্যাকসিন আবিস্কারের ঘোষণা দেয়। এবার ১১তম দেশ হিসেবে যুক্ত হলো বাংলাদেশ। দশম দেশ হিসেবে ভ্যাকসিন আবিস্কারের ঘোষণা দিয়েছিলো ভারত।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রতিষ্ঠানের করপোরেট কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হারুনুর রশীদ এ ভ্যাকসিনের নানা দিক তুলে আলোচনা করেন । এর আগে বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও নোয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মামুনুর রশিদ কিরণ। ভ্যাকসিন সম্পর্কে বিস্তারিত বলেন গ্লোব বায়োটেকের গবেষণা বিভাগের প্রধান ডা. আসিফ মাহমুদ।

হারুনুর রশীদ বলেন, গত ৮ মার্চ থেকে করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ কিট, টিকা এবং ওষুধ আবিস্কার সংক্রান্ত গবেষণা কার্যক্রম শুরু করে গ্লোব। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে প্রতিষ্ঠানের গবেষণা কেন্দ্রে প্রাণীর ওপর প্রাথমিক ট্রায়াল করা হয়েছে। আর তেজগাঁওয়ের গবেষণাগারে পরবর্তী কাজ শুরু হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায় পরীক্ষায় এটি সফল হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, মানবদেহেও সফলভাবে কাজ করবে এ ভ্যাকসিন। এটি সফল হলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে তার প্রতি উৎসর্গ করতে চান বলেও তিনি জানিয়েছেন।

হারুনুর রশীদ বলেন, ভ্যাকসিনটি নিয়ে তারা এখন সরকারের সংশ্নিষ্ট দপ্তরে যাবেন। এরপর তাদের দেওয়া গাইডলাইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। মামুনুর রশীদ এমপি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বাস্থ্য বান্ধব বর্তমান সরকার দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় গ্লোব বায়োটেক স্বাস্থ্যসেবায় নতুন নতুন চিকিৎসাসেবা উদ্ভাবনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

ডা. আসিফ মাহমুদ বলেন, গবেষণাগারে গবেষণার পর গত ১০ জুন ল্যাবরেটরিতে তিনটি খরগোশের দেহে তাদের তৈরি ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয় । পরবর্তীতে ২১ ও ২৮ জুন আরও দু’দফা ভ্যাকসিন প্রয়োগ করে অ্যান্টিবডি মিলেছে । অর্থাৎ, ভ্যাকসিনটি প্রাণীর দেহে প্রাথমিক পরীক্ষায় অ্যান্টিবডি তৈরি করতে পেরেছে। ভ্যাকসিনের বর্তমান এ অবস্থা একটি বড় অগ্রগতি বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি। এখন দ্বিতীয় ধাপে নিয়ন্ত্রিতভাবে ছোট-বড় ইঁদুরের ওপর আবারও প্রয়োগ করা হবে। এ জন্য ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ সময় লাগবে।

তিনি আরো জানান, এরপর বিএমআরসির (বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল) অনুমোদন নিয়ে মানবদেহে অন্তত তিন দফা পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করতে হবে। এই প্রয়োগ সফল হলেই ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদন নেওয়া হবে এবং ও তৃতীয় পক্ষ বা সিআরও পরীক্ষা করা হবে। সব শেষে বাজারে নিয়ে আসার জন্য চূড়ান্ত অনুমোদন নেয়া হবে। তিনি জানান, সরকারের সহযোগিতা থাকলে আগামী ছয় মাসের মধ্যেই এই ভ্যাকসিন মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব।

ডা. আসিফ জানান, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এনসিবিআইর (ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশন) ভাইরাস ডাটাবেজ অনুযায়ী গত ৩০ জুন পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) ৫ হাজার ৭৪৩টি সম্পূর্ণ জিনোম সিকোয়েন্স জমা হয়েছে । এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে জমা হয়েছে ৭৬টি । ওই সিকোয়েন্সগুলো বায়োইনফরমেটিক্স টুলের মাধ্যমে পরীক্ষা করে গ্লোব বায়োটেক তাদের ভ্যাকসিনের টার্গেট নিশ্চিত করে । ওই টার্গেটের সম্পূর্ণ কোডিং সিকোয়েন্স যুক্তরাষ্ট্রের এনসিবিআই ভাইরাস ডাটাবেজে জমাও দেওয়া হয় । এটা ইতোমধ্যে এনসিবিআইর স্বীকৃতি পেয়েছে। এ সিকোয়েন্স বায়োইনফরমেটিক্স টুলের মাধ্যমে পরীক্ষা করে গ্লোব বায়োটেক তাদের টিকার টার্গেট নিশ্চিত করে। এটা যৌক্তিকভাবে এই ভৌগোলিক অঞ্চলে অধিকতর কার্যকরী হবে ।

কভিড-১৯ মহামারি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার পর এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, নেদারল্যান্ডস, কানাডা, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, রাশিয়া ও ভারতের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ভ্যাকসিন আবিস্কারের ঘোষণা দিয়েছে। তবে কোনোটিই এখনও বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের অনুমতি মেলেনি। নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জনসাধারণ পর্যায়ে ভ্যাকসিন পেতে আরও কয়েক মাস লেগে যেতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন।

আরও পড়ুন

কোরবানির এত গরু যাবে কোথায়!

পবিত্র ঈদুল আজহায় ১৪টি কোরবানির পশুহাট বসাতে গত ১৭ জুন দরপত্র আহ্বান করেছিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। কিন্তু নির্ধারিত সময় গত ২৯ জুন পর্যন্ত তিনটি হাটের বিপরীতে দরপত্র জমা পড়েনি। দুটি হাটের বিপরীতে দর উঠেছে; তবে তা সরকার নির্ধারিত ইজারা মূল্যের চেয়ে অনেক কম। একই অবস্থা অন্য হাটগুলোতে। দরপত্রও জমা পড়েছে অনেক কম। প্রতিবারই প্রায় প্রত্যেক হাটের বিপরীতেই দর ওঠে সরকার নির্ধারিত দরের চেয়ে অনেক বেশি, প্রতিযোগীও থাকে বেশি।

হাট ইজারার নাজুক চিত্র শুধু ডিএসসিসিতেই নয়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ১০টি হাটের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। এমনকি সারাদেশের চিত্র তাই। আর এমন অবস্থার কারণ করোনা জনিত পরিস্থিতি।

কয়েক গুণ কমবে পশু কোরবানি : অন্যান্য বছর মানুষ ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ঈদুল আজহা পালন করতেন। করোনার ফলে এবার সেরকম হবে না বলে মনে করা হচ্ছে। বিশাল একটি জনগোষ্ঠী এখন আর্থিকভাবে সংকটের মধ্যে দিন পার করছে। তারা এবার পশু কোরবানির কথা ভাবতে পারছেন না। মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্ত যারা একাধিক পশু কোরবানি দিতেন, তারাও এবার পশু সংখ্যা কমাবেন। অনেকেই এবার করোনাজনিত কারণে পশুহাটে যেতে অাগ্রহী নয়। সব মিলিয়ে এবার পশুর চাহিদা কমে যাবে। এ কারণেই এবার সারাদেশে পশুহাটের সংখ্যা কমেছে। আগ্রহী ইজারাদাররা হাটের ইজারা মূল্যও কমিয়ে দিয়েছেন।

বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল ইউটিউবার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, গত বছর কোরবানির পশু হাটগুলোতে প্রচুর গরু অবিক্রীত ছিল। এবার আগে থেকেই বোঝা যাচ্ছে, অনেকে কোরবানি দিতে পারবেন না। কারণ, অনেকে এখন চাকরিহীন, নিম্নবিত্তরা কর্মহীন। আট-দশটা পশু কোরবানি দিতেন যারা, তারা দু-তিনটা দেবেন। অনেকে কোরবানির জন্য বাজেট কমাবেন। এ কারণে গরুর বদলে খাসির বাজার ভালো চলবে।

পশুর মজুদ পর্যাপ্ত :প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ধারণা করা হয়েছিল এবার এক কোটি ১০ লাখ পশু কোরবানি হবে। এর মধ্যে গরু ৪০ থেকে ৪৫ লাখ। এ জন্য দেশে পশু মজুদ আছে এক কোটি ২৫ লাখ। এর মধ্যে গরুই ৫০ লাখ। কাজেই ভারতীয় গরুর ওপর নির্ভর করতে হবে না। আর সরকার কয়েক বছর থেকে দেশীয় খামারিদের উৎসাহিত করতে ভারতীয় পশু আমদানি বন্ধ রেখেছে। ফলে খামারিরাও ভালো দাম পাচ্ছে। এ অবস্থায় এবারও ভারতীয় গরু আমদানি করার সম্ভাবনা নেই। সবচেয়ে বড় কথা, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে পশুসম্পদে স্বনির্ভর হয়ে উঠছে। মাংসের চাহিদার পুরোটাই দেশীয় পশুতেই মিটছে।

দেশে করোনা ভাইরাস ও পর্যাপ্ত পশুমজুদের কারণে উদ্বেগে পড়েছেন খামারিরা। অন্যান্য বছর কোরবানির কয়েক মাস আগে থেকেই ফড়িয়ারা খামারিদের পেছনে ঘুরতে শুরু করতেন। এবার কোরবানির মাত্র মাসখানেকের কম সময় বাকি থাকলেও কোনো ফড়িয়া বা আগাম ক্রেতার দেখা মিলছে না খামারে।

নাটোরের খামারি রমজান বলেন, ‘এখন বাজার খুবই খারাপ। আমার নিজের পালন করা গরু ১৭টি। ১৫ মণ করে শুধু মাংসের ওজন হবে- এমন গরু তিনটি আছে। সাড়ে সাত লাখ টাকায় এই তিনটি গরু গত কোরবানির এক মাস আগে কিনেছিলাম। প্রতিটি গরু এইবার ৬-৭ লাখ টাকায় বিক্রির আশা ছিল। কিন্তু কোন পার্টি মিলছে না।’

সাথিয়া উপজেলার আফড়া গ্রামের খামারি শাজাহান আলী বলেন, ‘এবার কপালে যে কী আছে, বুঝবার পারতিচি না। এহন পর্যন্ত বাড়িতে একজন ব্যাপারীও গরু দেখবার আহে নাই, হাটেও গরুর দাম নাই। গরু বেচবার পারবোনে কিনা, হেই চিন্তায় ঘুম আহে না। গরু তো আর না খাইয়ে রাহা যায় না, ৩০টা গরু পালতে কয়েক লাখ টাহা খরচ হয়। দুই মাস হইছে রাখালদের বেতন দেই নাই। গরু বেচবার না পারলি খুব মুশকিলে পড়ে যাব।’ গরুর দালালরাও গরু কিনতে খামারিদের কাছে ব্যাপারীদের নিয়ে আসছেন না বলে জানান খামারিরা । অবশ্য কয়েকজন ব্যাপারী বলেন, এবার তারা অনলাইনে পশু বিক্রির চেষ্টা করবেন।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাদিক অ্যাগ্রো লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী ইমরান হোসেন বলেন,অনলাইন প্ল্যাটফর্ম খুব বড় নয়। অনলাইনে কেনাকাটা চলে ৫ শতাংশ। এবার হয়তো সেটা বড়জোর ১০ শতাংশ হতে পারে। তার বেশি নয়। যে খামারি মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, সাতক্ষীরা কিংবা সৈয়দপুর থেকে হাটে গরু আনেন, তারা তো অনলাইনে পশু বিক্রি বোঝেন না। এ রকম খামারি বেশি। অনলাইনে বিক্রি করে ঢাকার আশপাশের হাতেগোনা কয়েকটি খামারি প্রতিষ্ঠান। গত বছর মোট ৪৫ লাখ গরু বিক্রি হয়েছে- যার মধ্যে ২৫ লাখ ঢাকায়। কিন্তু ২৫ লাখ গরু অনলাইনে কীভাবে বিক্রি করবেন? অনলাইনে বড়জোর ১০ হাজার গরু বিক্রি হবে।’

হাটে পশু-ক্রেতা দুইই কম থাকবে :করোনাভাইরাস ও সাধারণ মানুষের পকেটে টাকা না থাকার কারণে এবার সারাদেশের পশু হাটগুলোতে পশুও কম থাকবে। সেই সাথে ক্রেতাও কম থাকবে। কারণ, করোনার কারণে অনেক ক্রেতা-বিক্রেতা হাটে যাওয়া থেকে বিরত থাকবে। আবার আর্থিক অক্ষমতার করণে পশু কেনার চিন্তাই করবেন না অনেকে।

বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল ইউটিউবার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, করোনার কারণে এবার বড় খামারিরা ৬০ শতাংশ পশু হাটে তুলতে পারবে। আর ছোট খামারিরা তো অর্থ সংকটে পড়ে গত রমজানেই পশু বিক্রি করে দিয়েছে। অনেক ছোট খামারির কাছে গরু নেই। ভারতীয় গরুও আসবে না। কাজেই এবার ক্রেতা কম, গরুও কম। এতে বাজারে ভারসাম্য থাকতে পারে। কিন্তু হাটে গরুর সংখ্যা বেশি হয়ে গেলে বাংলাদেশের খামারিরা বিপাকে পড়বেন। কারণ, গত তিন মাসে খামারিদের খাবার কিনতে অনেক কষ্ট হয়েছে।

সাদিক অ্যাগ্রো লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী ইমরান হোসেন বলেন, গত বছর এক হাজার ৪০০ পশু বিক্রি করেছিলেন তিনি। এবার টার্গেট এক হাজার ৮০০টি গরু বিক্রি করার। কিন্তু হবে তা কিনা সন্দেহ।

রাজধানীর পশুহাটের চিত্র নাজুক : পশুহাটের ইজারা নেওয়া নিয়ে বরাবরই একটি প্রতিযোগিতা ও মহড়া হয় নগরভবনে। কিন্তু এবার ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের কোনো নগর ভবনেই সে চিত্র পাওয়া যায়নি। দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের শ্যামপুর বালুর মাঠ-সংলগ্ন হাটটিতে সরকার নির্ধারিত দর এক কোটি দুই লাখ ১১ হাজার টাকা। হাটটির ইজারা নিতে কেউ দরপত্র জমা দেননি। একই অবস্থা দনিয়া কলেজ মাঠ-সংলগ্ন খালি জায়গার মাঠ ও ধূপখোলা মাঠ-সংলগ্ন খালি জায়গার মাঠের।অথচ এ তিনটি হাট ইজারা নেওয়ার জন্য এলাকাবাসীর মধ্যে নানা ধরনের প্রতিযোগিতা চলে। বরাবরই সরকার নির্ধারিত দরের চেয়ে অনেক বেশি দরও ওঠে।

মেরাদিয়া বাজার-সংলগ্ন খালি জায়গা ও আরমানিটোলা মাঠ-সংলগ্ন খালি জায়গার মাঠটির বিপরীতে সরকার নির্ধারিত দরও ওঠেনি। অথচ প্রতিবারই সরকার নির্ধারিত দরের দুই থেকে তিনগুণ দাম ওঠে । মেরাদিয়ার সরকার নির্ধারিত দর এক কোটি নয় লাখ ৩৯ হাজার টাকার বিপরীতে দর উঠেছে ৯০ লাখ ও আরমানিটোলার সরকারি দর এক কোটি ৬৫ লাখ টাকার বিপরীতে দর উঠেছে এক কোটি ১৫ লাখ টাকা ।
উত্তর সিটি করপোরেশনের ১০টি পশুর হাটের পাঁচটিরই ভয়াবহ দরপতন হয়েছে। কয়েকটি হাটের ক্ষেত্রে দর পাঁচগুণ নেমে গেছে। দ্বিতীয় দফায় দরপত্র আহ্বান করেও কাঙ্ক্ষিত দর পায়নি করপোরেশন । দর কম ওঠার কারণে প্রথম দফায় মাত্র চারটি হাটের ইজারা সম্পন্ন করতে পারে কর্তৃপক্ষ । তবে সেগুলোও গত বছরগুলোর চেয়ে অনেক কম মূল্যে ইজারা দেয়া হয়েছে।

কয়েকটি মাঠে কাঙ্ক্ষিত দরপত্র জমা পড়েনি। তেজগাঁও ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট খেলার মাঠের হাটের জন্য মাত্র একটি দরপত্র জমা পড়ে । হাটটির সরকারি ইজারামূল্য ৪৯ লাখ ৫৭ হাজার ২৬৭ টাকা। দর ওঠে মাত্র ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ভাটারা পশুর হাটের জন্য তিনটি দরপত্র জমা পড়ে । হাটটির সরকারি ইজারামূল্য এক কোটি ৭৪ লাখ এক হাজার ৬৬৭ টাকা। অথচ সর্বোচ্চ দর ওঠে ৭১ লাখ টাকা। অন্য বেশ কয়েকটি হাটের ক্ষেত্রেও একই চিত্র বিদ্যমান। সব ক্ষেত্রেই কারণ একটাই। ইজারাদাররাও মনে করছেন, এবার ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই কম হবে পশুহাটে ।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বলেন, এবার দরপত্র ও ইজারামূল্য দুটোই কম পড়েছে। এ কারণে কয়েকটি হাটের তারা ইজারা চূড়ান্ত করতে পারেননি। বিষয়টি মেয়রের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন,এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন হওয়ায় আগে জনস্বার্থ বিষয়টিকেও প্রাধান্য দেওয়া হবে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে হাটের সংখ্যা কমাতে হতে পারে, প্রয়োজন হলে বাড়ানো হবে। এ ক্ষেত্রে রাজস্ব আয় মূল বিষয় নয়- মুখ্য বিষয় হলো নাগরিকদের স্বার্থ ।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..