1. a.hossainmcj@gmail.com : Akter Hossain : Akter Hossain
  2. Gram.bangla@yahoo.com : bigboss : Tanjim
  3. billal.mcj1@gmail.com : Billal Hosen : Billal Hosen
  4. mdkutubcou@gmail.com : গ্রাম বাংলা ডেস্ক : গ্রাম বাংলা ডেস্ক
  5. sanymcj@gmail.com : GramBanglaBD : Gram Bangla
  6. muhaimin.mcj@yahoo.com : Gram Bangla : Muhaimin Noman
  7. mohiuddinrasel1922@gmail.com : Mohi Uddin Rasel : Mohi Uddin Rasel
  8. rayhan.mcj@gmail.com : Abu Bakar Rayhan : Abu Bakar Rayhan
করোনায় আটকে পড়া রেমিট্যান্সের কী হবে? - দৈনিক গ্রাম বাংলা    
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:৩৬ পূর্বাহ্ন

করোনায় আটকে পড়া রেমিট্যান্সের কী হবে?

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২০
  • ১১৩ বার পঠিত

কুমিল্লার মো. তোফাজ্জল ওমান থেকে ফিরেছেন গত ১৪ মে। সেখানে তিনি রঙের কাজ করতেন। দেশে ফেরার সময় ৬ মাসের বেতন বকেয়া রেখে ফিরেছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি স্টিল ফ্যাক্টরিতে ১৪ বছর কাজ করেছেন আতিক। তার মাসিক বেতন অল্প অল্প করেই প্রতিমাসে পেতেন। এতে তার দেশে ফেরার আগে দুই মাসের বেতনসহ প্রায় ৫ লাখ টাকা আটকে আছে মালিকের কাছে। তোফাজ্জল-আতিকের মতো এভাবেই অনেকেই করোনা পরিস্থিতিতে দেশে ফেরত চলে এসেছেন এক অনিশ্চয়তার মধ্যে। এসব প্রবাসী কর্মীর ফেলে আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণ কত জানা নেই কারও।

গবেষণা বলছে, বকেয়া ফেলে আসার সংখ্যা তুলনামূলক বেশি দেশে ফিরে আসা ৫৫৮ জন কর্মীর সঙ্গে কথা বলে ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচি একটি জরিপ চালিয়েছিল গত মে মাসে। সেখানে তারা বলছেন, দেশে ফেরত আসা অভিবাসী কর্মীদের ৮৭ শতাংশেরই এখন কোনও আয়ের উৎস নেই। নিজের সঞ্চয় দিয়ে তিন মাস বা তার বেশি সময় চলতে পারবেন এমন সংখ্যা ৩৩ শতাংশ। ৫২ শতাংশ বলছেন, তাদের জরুরি ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন।

অন্যদিকে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিট (রামরু) বিদেশফেরত ৫০ জন প্রবাসী কর্মীর ওপর গত জুন মাসে এক জরিপে দেখেছে যে, ৭৮ শতাংশ কর্মীর বিদেশে কিছু না কিছু পাওনা থেকে গেছে। এই পাওনার পরিমাণ কারও সাড়ে ৯ হাজার টাকা তো কারও ৫ লাখ টাকা। পাশাপাশি বিদেশফেরত ২৬ শতাংশ কর্মীর কোনও পাওনা নেই বলে জানিয়েছে। রামরু জানায়, এই পাওনাগুলো মূলত তাদের পাওনা বেতন। এছাড়াও রয়েছে কিছু স্থানীয় বন্ধুর বিপদে ধার দেওয়া, ভিসা রিনিউ করার জন্য দেওয়া টাকা।
করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও রেমিট্যান্সে রেকর্ড

করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও প্রবাসী কর্মীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে করেছে রেকর্ড। চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইতে তাদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ ২৬০ কোটি মার্কিন ডলার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, একক মাস হিসাবে বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনও এত বেশি রেমিট্যান্স আসেনি। গত জুন মাসে প্রবাসীরা ১৮৩ কোটি মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন। জুন মাসে এটি ছিল রেকর্ড। তবে সেই রেকর্ড ভেঙে জুলাইতে ২৬০ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত বছরের জুলাইতে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিল ১৫৯ কোটি ৭৬ লাখ ডলার। এই হিসাবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স বেড়েছে এক বিলিয়ন ডলারের মতো।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব মতে, এপ্রিল, মে, জুন ও জুলাই— এই চার মাসে ৭০২ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। এরমধ্যে এপ্রিল মাসে এসেছে ১০৮ কোটি ৬৪ লাখ ডলার। মে মাসে এসেছে ১৫০ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, কী পরিমাণ রেমিট্যান্স আটকে আছে এই পরিসংখ্যান দেওয়া খুব কঠিন। আমরা যারা ফিরে আসছে তাদের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের অনেকেই বলেছে বেতন বাকি, তাদের চাকরি আছে কিনা সেটাও মালিকপক্ষ নিশ্চিত করেনি। তাদের অনেককেই অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখা হয়েছে। চাকরি হবে না নিশ্চিত এমন কর্মীর সংখ্যা কিন্তু ৫ শতাংশের নিচে, বেশিরভাগই ঝুলে আছে অনিশ্চয়তার মধ্যে। কাজেই যারা চলে আসছে তাদের বেতন দেওয়ার ক্ষেত্রে মালিকপক্ষের একটা ঝামেলা থাকে। আমরা প্রতিদিন গড়ে ৫০ জন অভিবাসী কর্মীর সঙ্গে কথা বলছি, তারা বলছে অনেকেই ঠিকমতো বেতন পাননি, অনেকে সামান্য কিছু টাকা নিয়ে আসছে, অনেকের সামান্য কিছু টাকা বাকি।

তিনি আরও বলেন, এক-তৃতীয়াংশ প্রবাসী বলেছেন যে তাদের কাছে যে টাকা আছে সেটা দিয়ে তিন মাস পর্যন্ত চলতে পারবেন। বেতন আটকে থাকার বিষয়টি একেক দেশে একেক রকম পরিস্থিতি। যেমন লেবাননে ডলারের দামে পতনের ফলে সে দেশের টাকার পরিমাণ কমে গেছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে কাজ নেই, মালদ্বীপ থেকে যারা আসছে তারা কিন্তু কাজ হারিয়ে আসছে। বকেয়া শোধ হওয়ার পর আসছে এমন কর্মীর সংখ্যা কিন্তু একেবারেই হাতেগোনা।

প্রত্যেক দেশের শ্রম আইনের কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন দেশের শ্রম আইনে কিন্তু কাজ না থাকলেও বকেয়া পরিশোধের বাধ্যবাধকতা আছে। প্রত্যেক দেশের শ্রম আইন সেরকম। তারপরও যদি টাকা না পেয়ে থাকে তাহলে কিন্তু কর্মী শ্রম আইনে সে দেশে অভিযোগ করতে পারে। এখন যদি দেশে ফিরে আসে তাহলে সে কর্মী কী করবে। সেক্ষেত্রে আমাদের দূতাবাসগুলো, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড একটা ফলোআপের মধ্যে যেতে পারে। যারা দেশে ফেরত আসছে তাদের কত বকেয়া আছে সেই তথ্য নিয়ে একটি ডাটাবেজের মতো করতে পারে। এই উদ্যোগটি এখন নেওয়া জরুরি, তাতে আমরা বুঝতে পারবো যে কতজনের কাজ নেই, কত টাকা পাওনা আছে। ফেরত যারা আসছে তাদের বিষয়ে কিন্তু সরকারের কাছে পরিষ্কার কোনও ডাটা নেই।

রামরুর প্রোগ্রাম পরিচালক মেরিনা সুলতানা বলেন, কী পরিমাণ রেমিট্যান্স আটকে আছে সেটা এখন বলা যাবে না। কিন্তু আমাদের আঞ্চলিক একটি প্ল্যাটফর্ম আছে মাইগ্রেশন ফোরাম ইন এশিয়া, আমরা এই রেমিট্যান্সগুলো আদায়ের জন্য এগুলো নিয়ে অ্যাডভোকেসি করছি, আমরা কেসগুলো সংগ্রহ করার চেষ্টা করছি বিভিন্ন জায়গা থেকে। অন্যান্য দেশের তথ্যগুলো আসছে আর আমরা বাংলাদেশেরটা দেখছি যে কারা কী পরিমাণ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, কী পরিমাণ টাকা ফেলে রেখে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের কাছে এরকম অনেক কেস আছে, যারা বলেছে যে কী পরিমাণ টাকা তারা ফেলে এসেছে। এরকম কেস ধরে ধরে আমরা তথ্য সংগ্রহ করছি এবং বুঝার চেষ্টা করছি যে কী পরিমাণ আটকে আছে এবং সে অনুযায়ী আমরা কীভাবে আন্তর্জাতিকভাবে অ্যাডভোকেসির মধ্যে আনা যায় তা নিয়ে ভাবছি। এছাড়া আমরা সরকারকেও এই জায়গায় সহায়তা করতে চাই। আমরা সুপারিশগুলো ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়কে দিয়েছি, যে মজুরি চুরি হয়েছে সেদিকে নজর দেওয়ার বিষয়ে।

এ প্রসঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বিদেশে যাদের পাওনা বা বকেয়া আছে তারা যদি সেটা নিয়ম অনুযায়ী না পেয়ে থাকে তাহলে আমাদের জানালে আমরা বিদেশে আমাদের মিশনে যে শ্রম কল্যাণ উইং আছে তাদের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। কিন্তু এখানে একটি বিষয় হচ্ছে, যারা ফর্মাল সেক্টরে কাজ করতো তাদের বিষয়ে এই প্রক্রিয়ায় সমাধান করা সম্ভব কিন্তু ইনফর্মাল সেক্টরে যারা কাজ করতেন কিংবা তথাকথিত ‘ফ্রি ভিসায়’ যারা গেছেন এদের ক্ষেত্রে কাজের চুক্তিপত্র থাকে না। তাই স্বাভাবিকভাবে তাদের বকেয়া আদায় করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..