1. a.hossainmcj@gmail.com : Akter Hossain : Akter Hossain
  2. Gram.bangla@yahoo.com : bigboss : Tanjim
  3. billal.mcj1@gmail.com : Billal Hosen : Billal Hosen
  4. mdkutubcou@gmail.com : MD Kutub Uddin : MD Kutub Uddin
  5. sanymcj@gmail.com : GramBanglaBD : Gram Bangla
  6. muhaimin.mcj@yahoo.com : Muhaimin Noman : Muhaimin Noman
  7. mohiuddinrasel1922@gmail.com : Mohi Uddin Rasel : Mohi Uddin Rasel
  8. rayhan.mcj@gmail.com : Abu Bakar Rayhan : Abu Bakar Rayhan
বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবি: চোখের সামনে মা বোনকে হারালাম - দৈনিক গ্রাম বাংলা    
রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২০, ০৭:১৩ অপরাহ্ন

বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবি: চোখের সামনে মা বোনকে হারালাম

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২০
  • ১৭৩ বার পঠিত

ডেস্ক রিপোর্ট

‘মুক্তা, তোদের সাথে আমিও তো ছিলাম। মাকে নিয়ে চলে গেলি তুই বোন! তোকে আমি কত ভালোবাসি জানস না! পানির মধ্যে আমি অনেক খুঁজেছি তোকে আর মাকে। পেলাম না। চোখের নিমেষেই তোরা ডুবে মরে গেলি, আমি কেনও বেঁচে ফিরলাম!’

গতকাল সোমবার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মর্গ চত্বরে এভাবেই আর্তনাদ করছিলেন বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবিতে বেঁচে ফেরা তরুণ সাইফুল ইসলাম রিফাত।

মা ময়না বেগম ও ছোট বোন মাহমুদা আক্তার মুক্তাকে নিয়ে ‘মর্নিং বার্ড’ লঞ্চে ঢাকায় ফিরছিলেন রিফাত। সঙ্গে রিফাতের এক বন্ধু ইরফানও ছিলেন। রিফাত ও ইরফান ডুবন্ত লঞ্চ থেকে বেঁচে ফিরে আসে। কিন্তু ফিরতে পারেনি রিফাতের মা আর বোন।

লঞ্চডুবি থেকে বেঁচে আসা রিফাত পুরান ঢাকার চকবাজারে একটি অনলাইন শপিংয়ে ডেলিভারিম্যান হিসেবে চাকরি করেন। গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের মিল্কিপাড়ায়। দুই বোন ও এক ভাই তারা। পাঁচ বছর ধরে সোয়ারিঘাট এলাকায় বসবাস করে তারা। বছরখানেক আগে ছোট বোন মাহমুদা আক্তার মুক্তা ও মা ময়না বেগমকে নিয়ে আসে ঢাকার ভাড়া বাসায়। মাঝেমধ্যেই মা ও বোনকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি বেড়াতে যেত রিফাত।

গেল শুক্রবার কর্মস্থল থেকে তিন দিন ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়ি গিয়েছিলেন রিফাত। সাথে ছিলেন মা ও বোন। ছুটি শেষ করে সোমবার চাকরিতে যোগ দেয়ার কথা ছিল রিফাতের। তাই সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে মুন্সীগঞ্জ কাঠপট্টি থেকে ‘মর্নিং বার্ড’ লঞ্চে ওঠে মা ও বোনকে নিয়ে। সাথে ছিলেন বন্ধু ইরফান। মাঝ রাস্তায় এসে ইরফান দোতলা লঞ্চের ছাদে উঠে যান। মা-বোনের সাথে দোতলায় পাশাপাশি বসেছিলেন রিফাত। সারাপথ বোনের সঙ্গে খুনসুটি করতে করতে আসেন রিফাত। সদরঘাটের কাছাকাছি এসে চোখের নিমেষে তাদের বহনকারী লঞ্চটি ডুবে যায়।

রিফাত ও তার বন্ধু ইরফান বেঁচে ফিরলেও রিফাতের ডান পায়ের হাঁটু কেটে গেছে ডুবন্ত লঞ্চ থেকে বের হতে গিয়ে। উদ্ধারকারী দল রিফাতকে পুরান ঢাকার হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েই স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মর্গে ছুটে যান রিফাত। বুড়িগঙ্গা থেকে লাশ উদ্ধারের পর নেওয়া হয় ওই মর্গে। রিফাতের বড় বোন মুন্নিসহ আত্মীয়-স্বজনরাও ছুটে আসেন মর্গে। সাদা কফিনে সারিবদ্ধভাবে রাখা লাশের মধ্যে মা ও বোনের মৃতদেহ খুঁজতে থাকে স্বজনরা। পায়ে আঘাতের কারণে মর্গ চত্বরে বসে আহাজারি করছিলেন রিফাত ও মুন্নি আক্তার।

মুন্নি ও রিফাতের বুক ফাটা কান্নায় কেউ চোখের পানি আটকে রাখতে পারেনি। একই সাথে বোন ও মা-হারা দুই ভাইবোনকে সান্ত্বনা দেয়ার ভাষাও হারিয়ে ফেলেন স্বজনরা। আর্তনাদ করতে করতে রিফাত বলেন, ‘পানিতে হাবুডুবু খেতেছিলাম। দম বন্ধ হয়ে আসছিলো। তবুও ডুবন্ত লঞ্চের মধ্যে মা-বোনকে খুঁজি। কিন্তু তাদের পাইনি। মুহূর্তেই চোখের সামনে মা-বোন ডুবে মরলো! আমি কেন বেঁচে ফিরলাম?’

রিফাত বলেন, কোরবানি ঈদের আগে আর গ্রামে ফিরবেন না বলেও কথা হয়েছিল তাদের সাথে। ঠিক করেছিলেন, একবারে কোরবানির সময় একসাথে বাড়ি ফিরবেন। কিন্তু মা-বোনের লাশ নিয়ে গ্রামের বাড়ি ফিরতে হবে রিফাতের।

লঞ্চ দুর্ঘটনা সম্পর্কে রিফাত বলেন, আমাদেরটি একটি ছোট লঞ্চ। তার ধারণা, ৬০-৭০ জন যাত্রী ছিলো। ৯টার দিকে সদরঘাটের কাছাকাছি ফরাশগঞ্জ বরাবর আসে লঞ্চটি। এ সময় হঠাৎ একটি লঞ্চ ব্যাকগিয়ার করে তাদের বহনকারী লঞ্চের পেছনে সজোরে ধাক্কা মারে। চোখের নিমেষেই লঞ্চটি এক উল্টে ডুবে যায়। ভেতরে যারা ছিলেন, তাদের অনেকেই কিছু বুঝে উঠতে পারেনি। রিফাত বলেন, ধাক্কা মারার সাথে সাথে আমি মা-বোনকে জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করি। এর আগেই লঞ্চ ডুবে যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..