1. a.hossainmcj@gmail.com : Akter Hossain : Akter Hossain
  2. Gram.bangla@yahoo.com : bigboss : Tanjim
  3. billal.mcj1@gmail.com : Billal Hosen : Billal Hosen
  4. mdkutubcou@gmail.com : গ্রাম বাংলা : গ্রাম বাংলা ডেস্ক
  5. sanymcj@gmail.com : GramBanglaBD : Gram Bangla
  6. muhaimin.mcj@yahoo.com : Gram Bangla : Muhaimin Noman
  7. mohiuddinrasel1922@gmail.com : Mohi Uddin Rasel : Mohi Uddin Rasel
  8. rayhan.mcj@gmail.com : Abu Bakar Rayhan : Abu Bakar Rayhan
বেকারদের ঈদ নেই, চাকরি হলেই বাড়ি ফিরবে - দৈনিক গ্রাম বাংলা    
শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২০, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ন

বেকারদের ঈদ নেই, চাকরি হলেই বাড়ি ফিরবে

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২০
  • ৯৩ বার পঠিত

ক্যারিয়ার ডেস্ক

রাজধানীর আজিমপুর সরকারি কোয়ার্টারের এক কর্মকর্তার বাসার একটি কক্ষে থাকেন চার বন্ধু। সকলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রাক্তন ছাত্র। মাস্টার্স শেষ হয়েছে তিন বছরের বেশি সময় আগে। এর মধ্যে একজন চাকরি করেন একটি বেসরকারি ব্যাংকে। বাকি তিনজন বেকার। চাকরি জোটেনি এখনও। চারজনের কেউই এবারের ঈদে বাড়ি যাননি।

ব্যাংকে কর্মরত সিফাত বাড়ি যাননি তার বর্তমান ক্যাশের চাকরিতে অসন্তুষ্টির কারণে। পণ করেছেন, বিসিএস কিংবা প্রথম শ্রেণির জব না হওয়া পর্যন্ত বাড়ি যাবেন না। অন্য তিনজন- আব্দুর রহিম, পারভেজ এবং সরোয়ার চাকরি না থাকার লজ্জায় বাড়ি যান না।

তারা বলছেন, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাস করার পরও কাঙ্ক্ষিত চাকরি না পাওয়ায় একদিকে তারা হতাশ আর অন্যদিকে পরিবারও হতাশ।

গ্রামের বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন ও এলাকার লোকজনও নিয়মিত জিজ্ঞাসা করেন- কী চাকরি করেন? সরকারি চাকরি হয়েছে কিনা? এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে না পেরে এক ধরণের হতাশা, অস্বস্তি ও গ্লানি বোধ করেন তারা। সেই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি এড়াতে ও পরিবারের জন্য ‘কিছু একটা’ করতে না পারার গ্লানি থেকে বাড়ি যাননি তারা।

রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা-শহরের হোস্টেল-মেসে এমন তরুণদের সংখ্যা বেড়েই চলছে। চাকরি না থাকায় কিংবা ভালো বেতনের চাকরি না হওয়ায় যারা এখন ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও বাড়িতে যেতে পারেন না। অথচ তারা চাকরি খুঁজছেন স্নাতক পাস করার পর থেকেই।

অন্য সবাই যখন ঈদ উৎসবে মেতে উঠতে গ্রামের বাড়ির পথে থাকেন তখন তারা ব্যতিব্যস্ত থাকেন নিজেদের লুকিয়ে রাখতে এবং চাকরিকেন্দ্রিক বইয়ের পাতায় মুখ গোঁজাতে।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ২০১৯ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ ৭৭ হাজার। এরমধ্যে শিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত বেকার ২৩ লাখ ৭৭ হাজার। আর অশিক্ষিত বেকার তিন লাখ।

বেকারদের মধ্যে ১০ লাখ ৪৩ হাজার উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাস। উচ্চশিক্ষা শেষ করা বেকারের সংখ্যা চার লাখ পাঁচ হাজার। যদিও বাস্তবে এ সংখ্যা আরো বেশি বলে মত অনেকের।

ঈদ উৎসবে শামিল না হওয়া এমন আরেকটি তরুণ দলের খোঁজ মেলে রাজধানীর শেওড়া পাড়ায়। ওই এলাকার একটি তিন কক্ষের ফ্ল্যাটে থাকেন আট তরুণ।

এদের মধ্যে একজন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স পাস করেছেন তিন বছর আগে। চারজন দুইটি পৃথক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র। তিনজন তিতুমীর সরকারি কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী। আটজনের মধ্যে দুইজন স্বল্প বেতনের চাকরি করেন। তিনজন করেন টিউশনি, তবে করোনাকালে তা বন্ধ রয়েছে। তাই গ্রামের বাড়ি থেকে পাঠানো টাকার ওপর নির্ভরশীল তারা সবাই।

এদের মধ্যে একজন জাহাঙ্গীর আলম বলেন, চাকরিহীন একজন তরুণ সবার চোখেই এমনকি নিজের চোখেও অবহেলা ও অশ্রদ্ধার পাত্র। কিন্তু যে শিক্ষাব্যবস্থা এবং কর্মসংস্থান ব্যবস্থাপনার কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা কেউ পরিবর্তন করতে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করছে না। ক্লাসের পড়াশোনা চাকরি পেতে কোনো ভূমিকাই রাখছে না। চাকরির জন্য অনুসরণ করতে হয় ভিন্ন সিলেবাস। তাই হয় আমাদের পাঠ্যক্রম পরিবর্তন করতে হবে নয় চাকরিতে নিয়োগের শর্ত বা পরীক্ষা নিয়ম-ধরণ পরিবর্তন করতে হবে। নীতিহীনতা ও অব্যবস্থপনার শিকার কোটি কর্মক্ষম তরুণ। এতে পিছিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশও।

ঠিক কতজন তরুণ বেকারত্বের কারণে ঈদ উৎসবে শামিল হতে বাড়ি যাননি তার সঠিক সংখ্যা-হিসাব জানা যায়নি। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, জগন্নাথ, বাংলাদেশ কৃষি, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, এআইইউবি, ড্যাফোডিলসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের প্রতিনিধিরা জানান, সব ক্যাম্পাস থেকেই পাস করা এমন প্রাক্তন শিক্ষার্থী রয়েছেন যারা ঈদ উৎসবে অংশ নিচ্ছেন না।

(সংশ্লিষ্টদের সম্মান রক্ষায় ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়েছে)

(ডেইলি ক্যাম্পাস)

আরও পড়ুন

ঈদের নামাজে আল্লাহর কাছে করোনা মুক্তির আকুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

‘হে আল্লাহ, যারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন তাদের সুস্থতা দান করুন। আপনি এই ভাইরাস থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করুন, আমাদের মাফ করুন। সারা পৃথিবীর মানুষকে ক্ষমা করে দিন। সারাবিশ্বকে করোনামুক্ত করে দিন। আমিন’।

শনিবার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ঈদের প্রথম জামাত শেষে এভাবেই মোনাজাতে আকুতি করেন জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মো. মিজানুর রহমান।

মোনাজাতে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করা হয়েছে। পাশাপাশি সম্প্রতি বিশ্ব ও বাংলাদেশজুড়ে মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতদের জন্য দোয়া করা হয়। এছাড়া মোনাজাতে সবার গুনাহ মাফ ও মৃত ব্যক্তির কবরের আজাব মাফ চাওয়া হয়েছে। বিশ্ব শান্তির জন্য দোয়া করা হয়।

এছাড়াও এ সময় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার নিহত পরিবারের রুহের মাগফিরাত, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়।

সদ্য প্রয়াত ধর্মমন্ত্রী অ্যাড. শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর মাগফিরাত এবং জামাতে উপস্থিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের দীর্ঘায়ুর জন্য দোয়া করা হয়। মোনাজাত শেষ হয় ৭টা ২৬ মিনিটে।

এর আগে, সকাল থেকেই মাস্ক পরে মুসল্লিরা দলে দলে বায়তুল মোকাররমে ঈদের প্রথম জামাতে অংশ নেয়ার জন্য যোগ দেয়। নির্ধারিত সময় সকাল ৭টায় নামাজ শুরু হয়ে শেষ হয় ৭টা ৮ মিনিটে।

মসজিদে ঢোকার আগে আগতদের মাস্ক চেক করে গেটে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা। নামাজের জন্য মুসল্লিদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে ফাঁকা ফাঁকা হয়ে বসতে দেখা যায়।

করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রাদুর্ভাবের কারণে ধর্ম মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবারও জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল আজহার নামাজ হচ্ছে না।

এদিকে, গত ১৪ জুলাই ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে ঈদের জামাত নিয়ে কিছু নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ঈদের নামাজের জামাতের সময় মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। নামাজের আগে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবাণুনাশক দ্বারা পরিষ্কার করতে হবে। প্রত্যেকে মুসল্লি নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসবেন।

প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসা থেকে অজু করে মসজিদে আসতে হবে এবং অজু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হবে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধ নিশ্চিতকল্পে মসজিদে অজুর স্থানে সাবান/হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে। মসজিদের প্রবেশদ্বারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার/হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ সাবান-পানি রাখতে হবে।

ঈদের নামাজের জামাতে আগত মুসল্লিকে অবশ্যই মাস্ক পরে মসজিদে আসতে হবে। মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না।

ঈদের নামাজ আদায়ের সময় কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে শারীরিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে দাঁড়াতে হবে এবং এক কাতার অন্তর অন্তর কাতার করতে হবে।

শিশু ও বৃদ্ধসহ অসুস্থ ব্যক্তি বা অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি ঈদের নামাজের জামাতে অংশ নেবেন না। সর্বসাধারণের সুরক্ষার নিমিত্ত স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীর নির্দেশনা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধকল্পে মসজিদে জামাত শেষে কোলাকুলি এবং পরস্পর হাত মেলানো পরিহার করতে হবে।

বায়তুল মোকাররমে ঈদের দ্বিতীয় জামাত সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে হয়েছে। এছাড়া তৃতীয় জামাত সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে, চতুর্থ জামাত ৯টা ৩৫ মিনিটে, পঞ্চম জামাত হবে সকাল সাড়ে ১০টায় এবং সর্বশেষ জামাত অনুষ্ঠিত হবে বেলা ১১টা ১০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া সরকারি আলিয়া মাদরাসা, ঢাকা মসজিদ এবং ধানমন্ডি ঈদগাহ মসজিদে সকাল ৮টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। পুরান ঢাকার বংশাল বড় মসজিদ, নিমতলী ছাতা জামে মসজিদ, তারা মসজিদ, নাজিরা বাজার আহলে হাদিস মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এছাড়া সকাল সাড়ে ৮টার পর দুটি করে ঈদের জামাত হয়েছে।

ধানমন্ডি তাকওয়া মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ৯টায়, ধানমন্ডির বায়তুল আমান মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায় ও সাড়ে ৮টায় দুটি করে জামাত হয়েছে।

রাজধানীর গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে সকাল ৬টায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ১০টায় ঈদের দুইটি জামাত হবে। মিরপুর কাজীপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তিনটি জামাত হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..