1. a.hossainmcj@gmail.com : Akter Hossain : Akter Hossain
  2. Gram.bangla@yahoo.com : bigboss : Tanjim
  3. billal.mcj1@gmail.com : Billal Hosen : Billal Hosen
  4. mdkutubcou@gmail.com : গ্রাম বাংলা : গ্রাম বাংলা ডেস্ক
  5. sanymcj@gmail.com : GramBanglaBD : Gram Bangla
  6. muhaimin.mcj@yahoo.com : Gram Bangla : Muhaimin Noman
  7. mohiuddinrasel1922@gmail.com : Mohi Uddin Rasel : Mohi Uddin Rasel
  8. rayhan.mcj@gmail.com : Abu Bakar Rayhan : Abu Bakar Rayhan
হেফাজতে ইসলামের কক্সবাজারের আমিরের মৃত্যু - দৈনিক গ্রাম বাংলা    
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২০, ০৭:২৫ পূর্বাহ্ন

হেফাজতে ইসলামের কক্সবাজারের আমিরের মৃত্যু

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২০
  • ৮৩ বার পঠিত

গ্রামবাংলা ডেস্ক: হেফাজতে ইসলামের কক্সবাজার জেলা সভাপতি ও জোয়ারিয়ানালা এমদাদুল উলুম মাদরাসার পরিচালক আল্লামা আবুল হাসান (৮৫) মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন)। রোববার (০৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের ধাওনখালী গ্রামের বাড়িতে মারা যান তিনি।

বার্ধক্যজনিত দুর্বলতার পাশাপাশি ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ সমস্যায় ভুগছিলেন কক্সবাজার জেলার প্রবীণ এই আলেম। মৃত্যুকালে স্ত্রী, পাঁচ ছেলে ও চার মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন তিনি।

জীবনের বেশির ভাগ সময় রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা এমদাদুল উলুম মাদরাসায় বিনা বেতনে শিক্ষকতা করেছেন তিনি। কয়েক বছর আগে একই মাদরাসার মুহতামিম হন তিনি। কক্সবাজারের একমাত্র আলেম হিসেবে তিনি হাটহাজারী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুরা কমিটির সদস্য ছিলেন। রোববার বিকেল ৪টায় ধাওনখালী গ্রামের পূর্বপাড়ায় নিজের প্রতিষ্ঠিত মসজিদের মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মরহুমের ছেলে কক্সবাজার হোটেল সি-কক্সের এমডি মো. কামাল হোসেন।

মাওলানা আবুল হাসান হাটহাজারী মাদরাসার মজলিসে শুরার সদস্য ও আল্লামা শাহ আহমদ শফীর অন্যতম অনুসারী। তার মৃত্যুতে জেলাজুড়ে শোকের ছায়া বিরাজ করছে। বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে শোক প্রকাশ করা হয়েছে। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন আল্লামা শাহ আহমদ শফীও।

আল্লামা শাহ আহমদ শফী শোকবার্তায় বলেন, আল্লামা আবুল হাসান চট্টগ্রামে কওমি অঙ্গনের একজন শীর্ষ মুরুব্বি, প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ, উম্মাহর দরদী রাহবার ছিলেন। তিনি বহুমুখী গুণের অধিকারী ছিলেন। তার চিন্তা-চেতনা ও প্রজ্ঞা অভিভূত হওয়ার মতো। তিনি ছিলেন কক্সবাজারের একজন দ্বীনি অভিভাবক। তার ইন্তেকালের মাধ্যমে অভিভাবকত্বের জায়গাটিতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা পূরণ হবার নয়।

এছাড়া আল্লামা আবুল হাসানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি কক্সবাজার জেলা আমির হাফেজ ছালামতুল্লাহ, নায়েবে আমির মাওলানা আ.হ.ম নুরুল কবির হিলালী, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসমাজের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি হাফেজ মুহাম্মদ আবুল মঞ্জুর, কক্সবাজার জেলা সভাপতি হাফেজ শওকত আলী, সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ দিদারুল আলম ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কক্সবাজার শাখার সেক্রেটারি মৌলানা ইয়াছিন হাবিব প্রমুখ।

আরো পড়ুন:

কখনও কোচিং করেনি বিসিএস প্রশাসনে প্রথম রুহুল

রুহুল আমিন শরিফ তাঁর কর্মস্থল নোয়াখালীর হাতিয়া শাখা কৃষি ব্যাংকে বসে কাজ করছিলেন। এক সহকর্মী এসে জানালেন, বিসিএস পরীক্ষার ফল বেরিয়েছে। পরীক্ষার রোল তাঁর মনে ছিল। তবু প্রবেশপত্র দেখতে দ্রুত বাসায় গেলেন রুহুল আমিন। ফিরে এসে ফল দেখতে লাগলেন। প্রথমে নিচের দিক থেকে দেখতে শুরু করলেন। কিছুতেই খুঁজে পাচ্ছিলেন না নিজের রোল। হঠাৎ ওপরের দিকে তাকাতেই দেখলেন, প্রশাসনের তালিকার একদম ওপরের রোলটাই তাঁর। বুঝে গেলেন ৩৮তম বিসিএসের ফলাফলে প্রশাসন ক্যাডারে তিনি প্রথম হয়েছেন।

পরীক্ষার ফল দেখার পর ধাতস্থ হতে একটু সময় নিয়েছিলেন। এরপর প্রথমেই রুহুল আমিনের মনে পড়ে বাবার কথা। ‘কারণ, উচ্চমাধ্যমিকের পর পড়াশোনায় কিছুটা খারাপ করায় বাবা আমার ওপর অভিমান করেছিলেন। তখন বাবা বলেছিলেন, কোনো কিছুতে কখনো যদি দেশসেরা হয়ে দেখাতে পারো, তাহলে অভিমান যাবে। তাই সব থেকে খুশির এই সংবাদটি প্রথমেই বাবাকে জানাই।’ বললেন রুহুল আমিন।

বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য কখনো কোচিং করেননি রুহুল আমিন। কিন্তু আত্মবিশ্বাস ছিল। ৩৮তম বিসিএসের ফল প্রকাশের পর দেখা গেল, প্রত্যাশা ছাপিয়ে তিনিই প্রথম।

রুহুল আমিন নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার বিশনন্দী ইউনিয়নের দয়াকান্দা গ্রামের ছেলে। বাবা ৩০ বছর ধরে তাঁতে বোনা কাপড়ের ব্যবসা করতেন। বছর খানেক আগে সেই ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। এখন তিনি নিজের কৃষিজমি দেখাশোনা করেন। মা রেহেনা আক্তার গৃহিণী।
মুঠোফোনে কথা হয় রুহুল আমিনের সঙ্গে

বিসিএসের প্রস্তুতির কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি শুধু দুটি চাকরির কথা ভেবেছি। একটি বিসিএস, আরেকটি ব্যাংক। এর বাইরে চাকরির পরীক্ষা দিইনি।’ তবে প্রচলিত নিয়মে বিসিএসের পড়া পড়েননি রুহুল আমিন। বললেন, ‘সবাইকে দেখেছি বিসিএসের জন্য কোচিং করতে। নিয়মিত নোট করে প্রস্তুতি নিতে। আমি এগুলোর কোনোটিই করিনি।’

৩৮তম বিসিএসই তাঁর প্রথম বিসিএস। এই বিসিএস দেওয়ার আগে তিনি বিগত ১০ বছরের প্রশ্ন দেখে পরীক্ষা সম্পর্কে ধারণা নিয়েছেন। ছাত্র অবস্থায় টিউশনি করতেন। এই টিউশনি তাঁর সবচেয়ে বেশি কাজে লেগেছে। তাঁর ভাষায়, ‘বিসিএসের সিলেবাস দেখে মনে হলো যেসব বিষয়ে আমি টিউশনি করাতাম, সেসব বিষয়ের অনেক কিছুই আছে বিসিএসের সিলেবাসে। এসব পড়তে অনেকে কোচিংয়ে যায়। কিন্তু আমি নিজেই এগুলো টিউশনিতে ছাত্রদের পড়াতাম।’

রুহুল আমিন জানান, কয়েকজন সহপাঠীকে দেখেছেন বিসিএস পরীক্ষা নিয়ে ঘাবড়ে যেতে। তাঁর বেলায় এমনটা হয়নি। তাঁর সব সময় মনে হতো ঠিকমতো পরীক্ষা দিলে বিসিএসে প্রত্যাশিত ফল পাবেন তিনি।

৩৮তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা দেওয়ার পরপরই লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন রুহুল আমিন। বিগত সালের লিখিত পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, সাধারণ বিজ্ঞান আর ইংরেজিতে বেশির ভাগ প্রার্থী ভালো করতে পারেন না। কিন্তু এ দুই বিষয়ে ভালো দখল ছিল তাঁর। মৌখিক পরীক্ষা দিতে গিয়েও বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিলেন।

তিনি বলছিলেন, ভাইভা বোর্ডে প্রথম দুটি প্রশ্নের উত্তর ভালো দেওয়ায় বোর্ডের সদস্যরা বেশ সন্তুষ্ট ছিলেন। পুরো পর্বটি খুব স্বাচ্ছন্দ্যে কেটে গেছে। তাঁর মনে হয়েছে, তিনি ভালো ফলই পাবেন।

বিসিএসের ক্যাডার পছন্দক্রম হিসেবে তাঁর প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পছন্দ ছিল যথাক্রমে প্রশাসন, পুলিশ ও পররাষ্ট্র। আত্মবিশ্বাস ছিল, যেকোনো একটি ক্যাডার পাবেন। পেয়েছেন প্রথমটিই।
ছোট থেকেই লেখাপড়ায় ভালো

রুহুল আমিনের ভালো ফলাফলের অভ্যাস ছোটবেলা থেকেই। ২০০২ সালে ২৮ নম্বর দয়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিকে ও ২০০৫ সালে শম্ভুপুরা উচ্চবিদ্যালয় থেকে অষ্টম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পান। ২০০৮ সালে মাধ্যমিকে জিপিএ–৫ পাওয়ার পর ভর্তি হন ঢাকা কলেজে। সেখান থেকে ২০১০ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। পরে তিনি ইঞ্জিনিয়ার্স ইনিস্টিটিউট বাংলাদেশের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান এএমআইই (অ্যাসোসিয়েট মেম্বারশিপ অব ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স) থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর পাস করেন।

শিক্ষকতা রুহুল আমিনকে বেশ টানে। আর তাই সময় পেলেই স্বেচ্ছাশ্রম হিসেবে শম্ভুপুরা উচ্চবিদ্যালয়ে বিজ্ঞান, গণিত ও ইংরেজি শেখাতেন শিক্ষার্থীদের। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ইংরেজি, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত ও জীববিজ্ঞান বিষয়ে পড়াতেন। গরিব শিক্ষার্থীদের পড়াতেন বিনা মূল্যে।

বিজ্ঞানশিক্ষার প্রতি দারুণ আগ্রহ রুহুল আমিনের। প্রতিবছর নিজের গ্রামের বিভিন্ন স্কুলে বিজ্ঞান প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন। এতে প্রতি স্কুল থেকে পাঁচজন করে শিক্ষার্থী অংশ নেয়। ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষায় যে ভালো করে, তাকে দেওয়া হয় পুরস্কার। আরও একটি কাজ করে আনন্দ পান রুহুল আমিন। মাঝেমধ্যেই গরিব শিশুদের এক বেলা পেট ভরে খাওয়ান তিনি।
পড়াশোনার বাইরে খেলাধুলা করতে পছন্দ করেন রুহুল আমিন। এ ছাড়া উপস্থিত বক্তৃতা, রচনা ও সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতায় বিভাগীয় পর্যায়ে তিনি নিয়মিত অংশ নিতেন।

দুই ভাই ও তিন বোনের পরিবারে রুহুল সবার বড়। তাঁর স্ত্রী মারিয়া ইসরাত শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি অর্থনীতিতে পড়ছেন।
ছেলে বিসিএস পরীক্ষায় প্রথম হওয়ায় দারুণ খুশি বাবা ছিদ্দিকুর রহমান। প্রথম আলোকে ফোনে তিনি বলেন, ‘একসময় ছেলের ওপর অভিমান করেছিলাম। কারণ, স্কুল–কলেজে ভালো ফলাফলের ধারাবাহিকতা সেই ভাবে রাখতে পারেনি। কিন্তু বিসিএসে প্রথম হওয়ার পর অভিমান কেটে গেছে। এখন সৎভাবে দেশের সেবা করুক, তাহলেই আরও বেশি খুশি হব।’

মা রেহেনা আক্তার বলেন, ‘ছেলে দেশ সেরা হয়েছে, এতে আমি অনেক খুশি হয়েছি। পাড়া–প্রতিবেশী সবাই আমার ছেলের সুনাম করছে। আমার আর কিছু চাওয়ার নেই।’

রুহুল আমিনের এক বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। এক বোন এবার এসএসসি পাস করেছে। আরেক বোন দশম শ্রেণিতে পড়ছে। সবার ছোট ভাই পড়ছে চতুর্থ শ্রেণিতে।

৩৮তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশ নিতে ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৪৬৮ জন আবেদন করেছিলেন। লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন ১৪ হাজার ৫৪৬ জন। লিখিত পরীক্ষায় পাস করেন ৯ হাজার ৮৬২ জন। এই ফলাফলে ২ হাজার ২০৪ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করেছে সরকারি কর্ম কমিশন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..